ইতিহাস

রেইকি একটি অতি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি। গোড়াথেকে রেইকির ইতিহাস শ্রুতিধরেরা বহন করে নিয়ে এসেছেন। লিখিত ভাবে তেমন কিছুই রক্ষা করা হয়নি। গুরু-শিষ্য পরম্পরায় চলে আসছিল। প্রচীন কালে আমাদের দেশের সনাতন ধর্মগুরু মুনিঋষি, সাধু-সন্ত, ইসলাম ধর্মের পীর-ফকির, ওলি-দরবেশ, খৃষ্টধর্ম জাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বিভিন্ন ধম ও সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক মহাত্মরা অনেকেই আধ্যাত্মিক শক্তির প্রয়োগ দ্বারা সকল প্রকার রোগ নিরাময় করতে পারতেন। এখনও অনেকেই করতে পারেন। কিন্তু এসব পদ্ধতি লিখিত ভাবে হস্থান্তর হত না বলে এই অলৌকিক চিকিৎসা পদ্ধতি ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। শত শত বৎসরের অব্যবহারে হয় বিলুপ্ত ও বিস্মৃত। তখন থেকে এই চিকিৎসা বিদ্যার প্রয়োগ সাধারণ লোকের কাছে এতদিন অজ্ঞাত ছিল।

এই বিলুপ্ত-বিস্মৃত অমূল্য চিকিৎসা পদ্ধতির পুনরুদ্ধার করেন জাপানের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং মনীষী ড. মিকাও উসুই। সময়টা ছিল জাপানের মেইজি যুগের মধ্যভাগ তথা ১৮০০ খৃষ্টাব্দের মধ্যভাগ। তাঁর প্রথম জীবন সম্পর্কে নানা রকম ভাষ্য আছে। যদিও তাঁর জীবন ইতিহাস সঠিক ভাবে জানা যায়নি। প্রাপ্ত তথ্যমতে ড. মিকাও উসুইর জন্ম আগষ্ট ১৫, ১৮৬৫ সাল। ড. মিকাও উসুই’র পরলোকগমনের পর তাঁর দুই শিষ্য রেইকি গ্র্যান্ড মাষ্টার ড. চুজিরো হায়াসি এবং গ্রান্ড মাষ্টার মিসেস হায়াও তাকাতা’র লেখনী থেকে জানা যায় যে, ড. মিকাও উসুই যৌবনে জাপানের কিয়েটো শহরে বসবাস করতেন।

রেইকির পূন প্রবর্তক ও বর্তমান রূপে প্রতিষ্ঠাতা মহাত্মা ড. মিকাও উসুই। তিনি ১৯ শতকের শেষভাগে জাপানের কিওটো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেসিডেন্ট ও যাজক ছিলেন। একদিন রবিবাসরীয় সমাবেশে একজন ছাত্র তাকে প্রশ্ন করে, আপনি কি বাইবেলের কথা অক্ষরে অক্ষরে মানেন? ড. ইসুই বললেন হ্যাঁ। ছাত্রটি প্রশ্ন করলো, তাহলে যীশুখৃষ্ট যে ভাবে হাতের ছোঁয়ায় মানুষকে নীরোগ করতেন, মৃতকে জীবিত করতেন, পানির উপর দিয়ে হাঁটতে পারতেন তা কি আপনি শুধুই বিশ্বাস করেন নাকি আপনার জীবনে এরকম কোন নিজস্ব অভিজ্ঞতা আছে?
ড. উসুই বললেন, না, আমার জীবনে সে রকম কোন অভিজ্ঞতা নেই। ছাত্রটি বললো, বাইবেলের উপর আপনার অন্ধ বিশ্বাস আপনার পক্ষে যথেষ্ট হতে পারে, কিন্তু আমি নিজের চোখে দেখে বিশ্বাস করতে চাই। উসুই বুঝলেন তার কাছে এ প্রশ্নের উত্তর নেই। তিনি এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেয়ার ব্যাপারে অক্ষম। এই ঘটনা ড. উসুইর জীবনে বিরাট পরিবর্তন এনে দেয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ছেড়ে সূদূর আমেরিকার পথে পা বাড়ান এই রহস্যের অনুসন্ধানে। সেখানে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অতি প্রাচীন খৃষ্টিয় পুঁথি বিষয়ে পড়াশুনা গবেষণা শুরু করলেন; কিভাবে যিশু কেবলমাত্র স্পর্শের মাধ্যমে রোগমুক্তি ঘটাতে পরাতেন।

গবেষণার ফলশ্রুতিতে তিনি ডক্টর উপাধি লাভ করেন বটে, কিন্তু যা খুঁজছিলেন তার দেখা পেলেন না। হযরত ঈসা (আ.) তথা যীশুখৃষ্ট যে ভাবে রোগীকে সুস্থ করতেন তার গোপন রহস্য তিনি খুঁজে পেলেন না। এই অনুসন্ধানের সময় তিনি জানতে পারেন মহামতি বুদ্ধেরও এই ক্ষমতা ছিল, এই ক্ষমতাছিল আরো অনেক নবী রসুলের, তৎকালীন সময়ের মুনি-ঋষি, পীর-ফকির, যাজক, ভিক্ষুসহ অনেক গুরু-সাধুর মাঝে। তিনি জাপানে ফিরলেন বুদ্ধদেবের জ্ঞান ও সারমর্ম উদ্ধার করতে। সেখানে ও পরবতীতে ভারতবষে অনেক ধর্ম ও উপাসনা গৃহে ঘুরে মুনি, ঋষি, পীর-ফকির, ভিক্ষুসহ সাধু-সন্তেরসাথে সাক্ষাৎ করে, সান্নিদ্ধ্যে গিয়ে রহস্য উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু কারও কাছথেকে তিনি তারমতো করে উত্তর পেলেন না। একসময় তিনি একজন জৈন গুরুসাধুর দেখা পেলেন, যিনি মানুষের শরীরকে সুস্থ করার প্রকৃয়ায় উৎসাহী ছিলেন। তিনি তাঁর পরামর্শে চীনের তিব্বতে গমণ করেন।

ড. মিকাও উসুই সেখানে গৌতম বুদ্ধের সূত্র ও শরীর সুস্থ করার চাবি কাঠি হাতে পেলেন কিন্তু জাপানী ও চীনা ভাষা আয়ত্ব করার পরেও তিনি সে সব সূত্রের অর্থ বুঝতে পারলেন না। ড. মিকাও উসুই হাল না ছেড়ে সংস্কৃত শিখলেন। গৌতম বুদ্ধের মূল সংস্কৃত সূত্র অর্থ বার করার এই সময়ে তিনি বুদ্ধদেবের একজন শিষ্যের লেখা প্রাচীন সংস্কৃত পুঁথিতে, যা খুঁজছিলেন সেই সূত্র, চিহ্ন ও নীরোগকরণের বর্ণনা পেয়ে গেলেন। ড. মিকাও উসুই বিদ্যালাভ করলেন বটে, শরীর সুস্থ করার শক্তির অধিকারী হতে পারলেন না। তিনি আরও অবহিত হলেন যে এপথে সফলতার জন্য কঠিন ধ্যান সাধনার প্রয়োজন।

মঠাধ্যক্ষ গুরুসাধুর সাথে আলোচনার পর তিনি ধ্যানের মাধ্যমে এই শক্তির সন্ধনের সিদ্ধান্ত নিলেন। মঠাধক্ষ্য সাবধান করে বললেন যে এইপথ খুবই বিপদজনক, এতে জীবনাবসানও হতে পরে। তিনি ফিরে এসে জাপানের এক পবিত্র পর্বত কোরাইজামায় ২১ দিন সাধনার তথা ধ্যানে উপবেশনের জন্য যাত্রা করেন। দিনের হিসাব রাখার জন্য সাথে নিয়ে যান ২১টি পাথর খন্ড। এক দিন যায় একটি করে পাথর খন্ড তিনি ফেলে দিতে থাকেন। ২১তম সাধনার দিনে তিনি দেখলেন আকাশ থেকে এক অতি উজ্জ্বল আলো তাঁর দিকে ধেয়ে আসছে। এই আলোক ধারা তাঁর ত্রিনয়নে প্রবেশ করলো। তিনি মাটিতে পড়ে যান ও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এই অজ্ঞান অবস্থায় তিনি মহাশূণ্যে বহু রামধনু রংয়ের বুদবুদ্ দেখতে পান। তিনি মহাশূন্যে ভাসমান বুদবুদের উপর সোনালী রংয়ের আভায় দেখতে পেলেন কিছু চিহ্ন ও নিদেশনা। তিনি খোঁজেপান গৌতম বুদ্ধ ও যীশুখৃষ্টের মানুষকে সুস্থ করার গোপন রহস্য। আর সেই দিনটিই হলো ড. মিকাও উসুইর রেইকি প্রথার শুরু।

ড. মিকাও উসুই যখন সংজ্ঞা ফিরে পেলেন তখন আকাশে সূর্য ছিলো। তিনি অবাক হয়ে অনুভব করলেন তার শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ, শক্তিতে ভরপুর এবং ক্ষুধাও অনুভব হচ্ছে। ২১ দিনের সাধনা ও উপবাস জনিত ক্লান্তির কোন চিহ্নই নেই। তিনি বুঝতে পারলেন তিনি তাঁর আরাধ্য সূত্র খোঁজে পেয়েছেন। তিনি অবনত মস্তকে শ্রষ্ঠার প্রতি কৃতজ্ঞা জ্ঞাপন করেন। তিনি দ্রুতপায়ে নীচের দিকে চললেন। এ সময় পাথরে আঘাত লাগায় তার বুড়ো আঙ্গুল ছিড়ে রক্তপাত শুরু হলো। তিনি ক্ষতস্থানে তার হাত লাগাতেই সেখানে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়, ব্যথাও চলে যায়।
পাহাড়ের নীচে নেমেই তিনি একটি পান্থশালা/ সড়াইখানা দেখতে পেলেন। সরাইখানার মালিককে তিনি বেশীকরে খাবার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। সরাইখানর মালিক ড. মিকাও উসুইর দাড়ি, বস্ত্র ও চেহারা দেখে বুঝলেন এই মানুষটি অনেকদিন উপবাস করে সাধনা করেছেন। তিনি জানালেন পুরো খাবার না খেয়ে প্রথমে স্যূপ জাতীয় তরল পানীয় পান করাই শ্রেয়। ড. মিকাও উসুই বললেন না। তিনি পুরো খাবারই খেলেন। অলৌকিক ব্যাপার এমনই যে, এতদিন অভূক্ত থাকার পর হঠাৎ এতো খাবার তিনি সহজেই হজম করতে পারলেন।
সরাইখানার মালিকের নাতনি দাঁতের যন্ত্রনায় কষ্ট পাচ্ছিল। তার দাঁতের ব্যথায়, চোয়াল ও মাড়ি ফুলে গিয়েছে। ড. মিকাও উসুই তাকে সাহায্য করতে অনুমতি চাইলেন। তিনি মেয়েটির মুখের দুপাশে হাত দিয়ে ধরে রাখলেন, কিছুক্ষণের মধ্যে মেয়েটির দাঁত ও মুখের ব্যথা সেরে গেল। ফোলা মুখে হাসি ফুটে উঠলো।
এবার ড. মিকাও উসুই কিওটো শহরের ভিক্ষুকদের আবাস স্থলে গেলেন তাদের সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। সকলকে তিনি সুস্থ করে দিলেন এবং যুবকদের সৎকর্ম করে জীবন যাপন করতে শহরে পাঠালেন।

অতঃপর তিনি পূণরায় সফরে বের হন। রহস্য অনুসন্ধানের দীঘপথে যারা সাহায্য ও পরামশ দিয়েছেন তাদেরসাথে সাক্ষাৎ করেন। তাদের অনেকেই নানা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন, তাদের তিনি স্পশের মাধ্যমে আরোগ্য লাভে সহায়তা করেন। সফরের এক পযায়ে জৈন উপাসনা গৃহে পৌঁছে তিনি দেখলেন সেই মঠাধ্যক্ষ গুরুসাধু বাতের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন। সাধনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার সময় ড. মিকাও উসুই সেই গুরু সাধুর গায়ে হাত রাখলেন। তার সমগ্র গায়ের ব্যাথা সেরে গেল। গুরু সাধু আশ্চর্য্যান্বিত হয়ে বললেন উসুই তুমি পেয়েছ।
এদিকে প্রায় সাত বছর পর ড. মিকাও উসুই সেই ভিক্ষুকদের আবাসে ফিরে হতবাক হয়ে গেলেন। তিনি দেখলেন তার চেনা মানুষগুলো যাদের তিনি সুস্থ করেছিলেন তারা প্রায় সবাই আগের অস্থায় ফিরে এসেছে। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন, তারা পূর্বের ন্যায় ভিক্ষা করে জীবন নির্বাহ করছে। পরিশ্রম না করে জীবন ধারনকেই তারা বেশী পছন্দ করছে। ড. মিকাও উসুই উপলব্ধি করলেন তাদের মনে কৃতজ্ঞতা বোধ নেই। রোগীর মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ না থাকলে রোগ সারে না। এই সময় তিনি রেইকি পঞ্চ নীতি প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি আরও বুঝলেন, শক্তি বিনিময় প্রয়োজন আছে। অসুস্থ মানুষ যে মানুষের মাধ্যমে সুস্থতা ফিরে পাচ্ছে তিনি শিক্ষক ও গুরু। গুরুর প্রতি যেমন ধন্যবাদ জানানো দরকার তেমনি প্রয়োজন সম্মাণ সূচক দক্ষিণা প্রদান। তা অর্থই হোক বা সুস্থতা প্রাপ্ত মানুষের ভালো লাগা কোন নিজস্ব বস্তু। এ বিনিময় না হলে স্থায়ী ফললাভে বিঘ্ন ঘটে। সাধনায় প্রাপ্ত বিশেষ প্রক্রিয়ার দ্বারা ছাত্রদেরকে শিক্ষা দিলে, দীক্ষা দিলে, দিনে দিনে সাধনার ফলে ক্রমশ ছাত্রের মধ্যে শক্তির পরিমাণ বাড়ে। সাধনার দ্বারা এই রেইকি শক্তি বাড়তে বাড়তে ছাত্রও পরবর্তীধাপগুলি অর্জনের মাধ্যমে একদিন গুরু হয়ে যেতে পারেন।

ড. চুজিরো হায়াসী ছিলেন একজন অবসর প্রাপ্ত নৌবিদ। তিনি মানুষের সেবায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে আগ্রহী ছিলেন। ড. মিখাও উসুই তাঁকে ছাত্র হিসাবে নিলেন। তিনি হায়াসীকে দীক্ষা দিলেন। অনেক সাধনার পর ড. মিকাও উসুই এর শিক্ষা ও দীক্ষায় হায়াসী শিক্ষাগুরু হলেন। ড. মিকাও উসুই ইহলোক ত্যাগের পূর্বে রেইকির সমস্থ শিক্ষা, ক্রিয়া ও গোপনীয়তার দায়িত্ব ড. হায়াসীর ওপর অর্পণ করেন।
ড. হায়াসী টকিওতে রেইকি হিলিং ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি অনুভব করেন রেইকি রোগের কারণ খুঁজতে পারে এবং সঠিক স্পন্দন দিয়ে শরীরে সমতা আনতে পারে। এতেই শরীর ও মন সুস্থ হয়।

১৯৩৫ সালে হাওয়ায়ো তাকাতা নামে এক মহিলাকে হাওয়াই দ্বীপ থেকে হায়াসীর ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয়। তাকাতা জাপানে আসেন তার টিউমারের চিকিৎসা করাতে। শল্য চিকিৎসা না করিয়ে ম্যাডাম তাকাতা হায়াসীর ক্লিনিকে রেইকি চিকিৎসায় ইচ্ছুক হন। এই চিকিৎসায় টিউমার সেরে যায়। গুণমুগ্ধ তাকাতা হায়াসীর কাছে রেইকি শিখার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।
ড. হায়াসী টকিওতে তাকাতা আর তার দুই মেয়েকে রেইকি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিলেন। তাকাতা সাধানা ও একাগ্রতা এবং মানুষের ভালোর জন্য নিষ্ঠা দেখে তাকে ১৯৩৮ সালে ড. মিকাও উসুইর রেইকি পদ্ধতির শিক্ষাগুরু পদে দীক্ষা দেন।

১৯৪১ সালে হায়াসী বুঝতে পালেন যুদ্ধ আসন্ন। তিনি তাকাতাকে ডেকে সব বুঝিয়ে দিলেন আর রেইকি বাঁচাতে তাকাতাকে কোথায় থাকতে হবে তাও বুঝিয়ে দিলেন। অতঃপর ড. হায়াসী বন্ধুদের মধ্যে পদ্মাসনে বসে স্বেচ্ছায় দেহত্যাগ করেন।
তাকাতা হাওয়াই দ্বীপে ফিরে গিয়ে রেইকি শিক্ষা, নীরোগী করণ ও দীক্ষাদানের কাজে নিজেকে সমর্পণ করেন। মানুষের সেবায় তার দিন কাটতে থাকে। ১৯৭০ সালে তিনি ২২ জন যোগ্য মানুষকে শিক্ষাগুরুর ভূমিকা নিতে দীক্ষা দেন। ১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। এই ২২ জন শিক্ষাগুরুর হাতধরেই ড. মিকাও উসুইর প্রাকৃতিক স্বাভাবিক সুস্থকরণের পদ্ধতি রেইকি এখন সারা বিশ্বে পরিব্যপ্ত।

আমেরিকায় এখন দুটি রেইকি প্রতিষ্ঠান আছে। প্রথমটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল রেইকি এসোসিয়েশন ইনকর্পোরেটেড (এ.আই.আর.এ) ড. বারবারা ওয়েবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, ১৯৮২ সালে। দ্বিতীয়টি দি রেইকি এলায়েন্স ফিলিফ লী ফুরুমোতো দ্বারা ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত। ফিলিফ হলেন গ্রান্ডমাষ্টার ম্যাডাম তাকাতার পৌত্রী। তিনি তাকাতার দ্বারা দীক্ষিত ২২ জন রেইকি মাষ্টারের অন্যতম।