আত্মকর্মসংস্থান হিসাবে রেইকি

আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের অভাবের কথা, দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা কাউকেই ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলতে হয়না। কাজেই যার দুটি হাত রয়েছে, যিনি সৎভাবে জীবন যাপন করতে চান, রাতারাতি বড় লোক হওয়া বা লোক ঠকানোর কুমানসিকতা যাদের নেই, তারা রেইকি শিখে নিজের ঘরে বসেই মানব সেবা করতে পারেন। সাথে সাথে জীবিকার জন্য অর্থ উপার্জনও করতে পারেন।

১. রেইকি চিকিৎসায় রোগীদের প্রতারিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

২. চিকিৎসকের ভূলের/ অনভিজ্ঞতার/ অবহেলার কারণে ভূল বা নকল ওষধ গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া বা পার্শ্বপ্রতিকৃয়ার কবলে পড়ে অর্থ ও স্বাস্থ্য হারানোর ভয়ও নেই।

৩. কারণ এখানে কোন ওষধের প্রয়োগ নেই, নেই কোন অস্ত্রপ্রচার বা রক্তক্ষরণ। রোগী দেখবেন, উপলব্ধি করবেন তার রোগ যন্ত্রণা লাগভ হয়েছে, তিনি ক্রমশ আরোগ্য অর্জন করছেন। কাজেই চিকিৎসককে পারিশ্রমিক দিতে বাধা কোথায়।

৪. পূর্বাহ্নে চুক্তি করা, গ্যারান্টি দেয়া, যাদু বিদ্যা বা ভৌতিক বা অধিভৌতিক কোন বিষয়ের অবতারণা করে নকল চিকিৎসক সেজে লোক ঠকানোর কোন সুযোগও এখানে নেই।

৫. আবার আজ এই ঔষধ, কাল সেই ঔষধ, আজ এই টেষ্ট, কাল সেই টেষ্ট বলে চিকিৎসার নামে দীর্ঘ সূত্রিতা ও অর্থ-স্বার্থ নাশের সুযোগও এখানে নেই।

৬. কোন বিশেষ জটিল রোগের ক্ষেত্রে অন্ধ হয়ে রেইকিতে বসে থাকা, আর কোন চিকিৎসাই নয় এমন মানসিকতাকেও রেইকি উৎসাহিত করেনা।

৭. বরং রেইকির পাশাপাশি অন্য যে কোন নির্ভর যোগ্য চিকিৎসক বা চিকিৎসার স্মরণাপন্ন হতে পারেন। এতে রেইকি চিকিৎসা ব্যাহত হয় না বরং অন্য চিকিৎসার কুফল এড়ানো যায়।

৮. রোগী চিকিৎসকের এক-দুই বা তিন দিনের হাতের স্পর্শ পেলেই রোগের গতিপ্রকৃতির ধারনা পেয়ে যাবেন। তবে রোগীদের বাস্তববাদী ও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন।

৯. সাথে সাথে চিকিৎসায় দক্ষতা অর্জনের জন্যও শর্টকাট কোন রাস্তা এখানে খোলা নেই। যিনি যতবেশী সময় দেবেন, সততা ও নিষ্ঠারসাথে পরিশ্রম করবেন, নিয়মিত সাধনা করবেন, আদর্শ জীবন যাপন করবেন; তিনি ততবেশী চিকিৎসক হিসাবে সফলতা পাবেন। তার হাতে রোগীরাও দ্রূত আরোগ্য লাভ করবে।

১০. কাজেই সৎ ও নিষ্টাবান ব্যাক্তিরা, আদর্শ জীবন যাপনে আগ্রহীরা স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য রেইকি শিখতে পারেন। চর্চা ও সাধনার মাধ্যমে নিজেকে আদর্শ রেইকি চিকিৎসক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। জীবনকে করতে পারেন সফল ও প্রাচুর্য্য ময়।