কিভাবে কাজ হয়

আধ্যাত্মিক শক্তির নব্বই শতাংশ হলো দেহ, মন, আত্মার, চিন্তা, উচ্চতর মানসিক সচেতনতা বা কনসাসনেছ। মুনিঋষিদের মতে মানব দেহের সাতটি প্রধান চক্র হচ্ছে-  সহস্রার, অজ্ঞা, বিশুদ্ধা, অনাহত, মণিপুর, স্বাধিষ্ঠান এবং মূলাধার কিংবা পীরফকিরদের মতে প্রধান প্রধান লতিফা- আখফা, ছির, খফি, রূহ, কলব, নফস, খাক, বাদ ইত্যাদি। এসব চক্র বা লতিফার প্রত্যেকটি একেকটি এন্ডোক্রিন গ্লান্ড বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির সাথে যুক্ত। রেইকি চর্চার কালে সাধকগণ মহাজগতের নিয়ন্ত্রক শক্তি তথা কসমিক এনার্জি/নূরে এলাহি/রেইকি এনার্জি শরীরের চক্র/লতিফা/অন্তক্ষরা গ্রন্থি/শরীরের চ্যানেলের মধ্য দিয়ে আহরণ করে চক্রে/লতিফায়/এন্ডেক্রিনের মধ্যে প্রবাহিত করা। সাতটি চক্রের মধ্যে উপরের তিনটি চক্রের যোগাযোগ পৃথিবীর সঙ্গে। মাঝের চক্র অনাহত এবং সোলার প্লাস্কেস/মণিপুর বা কলব লতিফাটি যুক্ত আমাদের হার্ট বা হৃদপিন্ডের সঙ্গে। মহাজগত তথা ব্রহ্মান্ড থেকে আহরিত শক্তি চক্রথেকে দুই হাতের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় হাতের তালুহয়ে আঙ্গুলের ডগা বা প্রান্তভাগে। যে কারণে হাতে ও আঙ্গুলের শক্তি বেড়ে যায়। একজন রেইকি চ্যানেল, চিকিৎসক বা মাস্টার হাতের মাধ্যমে এই শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই অসুস্থতা ভাল করেন।
রেইকি চিকিৎসা প্রয়োগকালে রোগের চিকিৎসায় মানুষের শরীরের সাতটি এন্ডোক্রিন গ্লান্ড যথাক্রমে পিটুইটারি, পিনিয়াল, থাইরয়েড, থাইমাস, প্যানক্রিয়াস, গোনাডস এবং এড্রিনাল গ্রন্থির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আর মোটামুটি সচেতন সবাই জানেন যে, এসব গ্লান্ড থেকে নিঃসৃত হরমোনই মানবদেহ তথা অংগপ্রত্যাংগকে কর্মক্ষম রাখে। সত্যিকার অর্থে মানুষ ততোক্ষণ সুস্থ থাকে যতোক্ষণ তাকে ঘিরে থাকা শক্তির মধ্যে কোন ছন্দের তারতম্য না ঘটে। যখনই তারতম্য ঘটে, শরীরের শক্তিপ্রবাহ বিগড়ে যায়। আর তাতেই এতোদিন- যে শরীর ছিল সুস্থ, তাই হয়ে ওঠে অসুস্থ। আসলে সুখের অভাবই তো অসুখ। রেইকি চিকিৎসার বিশেষত্ব এই যে, এটা শক্তিকে চক্র ও গ্লান্ডের মাধ্যমে সঞ্চারিত করে শরীরের সুস্থতা ফিরিয়ে দেয়। বলেরাখা ভাল রেইকি চিকিৎসার সঙ্গে অন্য কোন ধরনের চিকিৎসার কোনো বিরোধ নেই। রেইকি চিকিৎসায় শরীরের বিষাক্ত টক্সিন বেরিয়ে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গগ গুলো আবার ভালোভাবে কাজ করতে শুরু করে।

দেহস্থ শক্তিকেন্দ্র/ চক্র/ লতিফা এবং অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি

চক্র শব্দটির চলতি অর্থ হলো চাকা। চক্র হলো স্বয়ং বৃত্তাকার শত্তিকেন্দ্র যা মানুষের সূক্ষ্ম শরীরে স্থিত থাকে এবং সেই বিশেষ ক্ষেত্রের অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গ সমূহকে নিয়মিত বা সক্রিয় রাখে। মুনি ঋষিদের কাছে যা চক্র পীর-ফকিরদের কাছে তা হলো লতিফা। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান, রেইকি গ্রন্থ, ভারতীয় যোগ শাস্ত্র, তাসাউপ চর্চা কারীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী দেহস্থ সাতটি চক্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে আমাদের সাতটি অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির (Endocrine glands)। এই গ্রন্থিগুলো রক্তের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের শক্তিদায়ক হর্মোন নির্গত করে আর সেগুলো আমাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। পিনিয়াল, পিটুইটারী, থাইরয়েড, প্যারা- থাইরয়েড, এড্রিনাল, গোনাড, অগ্ন্যাশয় এগুলো হচ্ছে উল্লেখযোগ্য অনালী গ্রন্থি। ভয়, ক্রোধ, অবসাদ, প্রসন্নতা, বিষন্নতা, আনন্দ, বেদনা, উৎসাহ ইত্যাদি মানসিক অবস্থায় অন্তঃস্রাবী গ্রন্থিগুলো থেকে নির্গত হওয়া স্রাব বা হর্মোন শরীর ও মস্তিস্ককে অতিমাত্রায় প্রভাবিত করে। অন্তঃস্রাবী গ্রন্থি ও তাদের কাজ হলো-
১. সহস্রার চক্র (Crown Chakra), আখ্ফা লতিফঃ অন্তক্ষরা গ্রন্থি- পিনিয়েল গ্রন্থি। শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ- ব্রেনের উপরিভাগ এবং ডান চোখ। কার্যকারিতা- আধ্যাত্মিক প্রগতি। উপাদান- আকাশতত্ত্ব। রং- বেগুনি, মতান্তরে সাধা ও সোনালী।
২. আজ্ঞা চক্র  (Brow Chakra), খফী লতিফাঃ অন্তক্ষরা গ্রন্থি- পিটুইটারী গ্রন্থি। শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ- অটোনমিক নার্ভাস সিষ্টেম ও হাইপোথ্যালামাস। কার্যকারিতা- টেলিপ্যাথি ইনটিউসন সেন্টার। উপাদান- আকাশতত্ত্ব। রং-  নীল (তুঁতে)।
৩. বিশুদ্ধা চক্র (Throat Chakra), ছির লতিফাঃ অন্তক্ষরা গ্রন্থি- থাইরয়েড গ্রন্থি। শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ- কন্ঠ, ফুসফুস এবং কন্ঠস্বর। কার্যকারিতা- অভিব্যাক্তি এবং বার্তালাপ। উপাদান- আকাশতত্ত্ব। রং- আকাশি (নীল)।
৪. অনাহত চক্র (Heart Chakra), রূহ লতিফাঃ অন্তক্ষরা গ্রন্থি- থাইমাস গ্রন্থি। শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ- হৃদয়, ফুসফুস, লিভার এবং রক্ত সঞ্চার পদ্ধতি। কার্যকারিতা- প্রেম, প্রীতি ও করুণা। উপাদান- বায়ুতত্ত্ব। রং- সবুজ ও পীংক।
৫. মনিপুর চক্র (Solar Plexus Chakra), ক্বলব লতিফাঃ অন্তক্ষরা গ্রন্থি- প্যানক্রিয়াস গ্রন্থি। শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ- পেট, লিভার ও পিত্তাশয়। কার্যকারিতা- শক্তি ও বুদ্ধির কেন্দ্র। উপাদান- অগ্নিতত্ত্ব। রং- হলুদ।
৬. স্বাধিষ্ঠান চক্র (হারা) (Naval or Sacral Chakra), নাফ্স লতিফাঃ অন্তক্ষরা গ্রন্থি- গোনাড্স গ্রন্থি। পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টিস ও নারীদের ক্ষেত্রে ওভারী। শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ- জননেন্দ্রিয়। কার্যকারিতা- কল্পনাপ্রবণতা, আবেগ এবং যৌন আবেদন। উপাদান- জলতত্ত্ব। রং- কমলা।
৭. মূলাধার চক্র (Basic or Root Chakra)ঃ অন্তক্ষরা গ্রন্থি- সুপ্রারেনাল গ্রন্থি। শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ- কিডনি, ব্লাডার এবং মেরুদন্ড। কার্যকারিতা- শারীরিক শক্তি এবং কুন্ডলিনী শক্তি। উপাদান- ক্ষিতিতত্ত্ব। রং- লাল।