দূর থেকে রেইকি চিকিৎসা

যদি এক বিশেষ স্থরে সূক্ষ্ম বৈদ্যুতিক আবেশ বিসর্জিত করা যায় তাহলে পৃথিবী তাকে শোষণ করবে না। আর যদি করেও তার গতি অত্যন্ত সামান্য হবে। কিছু অবশ্য পৃথিবী বা আর্থের দিকে চলে যায়/যাবে।
ওয়ারলেস, রেডিও, টিভি ওয়েভসহ সকল মাইক্রো ওয়েভ দূর সঞ্চার প্রকৃয়ায় এই ধরনের আবেশ সংকেত বা সিগন্যালের মত প্রসারিত ও প্রবাহিত হয়। এগুলি আলোর চেয়েও দ্রুত গতিতে আবহ/আকাশ মন্ডলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর রিসিভার হয় সে ব্যাক্তি যার উপর প্রেরক দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রেখেছেন এবং যে এটা পাওয়ার জন্য প্রেরকের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। যদি প্রেরকের দৃষ্টি শুধু সেই ব্যক্তির চেহারা এবং নামের উপর নিবদ্ধ হয় তাহলে সে তাকে প্রভাবিত করতে শুরু করবে। যদিও এটা এক বিস্ময়করী গুণ, তথাপি দীক্ষা প্রাপ্তির পর প্রেরকগণ ঐশ্বরিক শক্তি সমূহের এমনই গুণ প্রত্যক্ষ করে থাকেন। যা নিজের থেকেই চেতনা সম্পন্ন হয় এবং তার লক্ষ্যকে (ব্যাক্তি, বস্তু, ঘটনা) সে খুঁজে নেয়।
যে কারণেই বর্তমান রূপে রেইকি উদ্ভাবক ড. মিকাও উসুই রেইকি প্রবাহকে স্বয়ং চেতন, স্বনির্দেশিত এবং স্ববিবেকী শক্তি বলেছেন। বাস্তবে প্রয়োগ কালে ও প্রয়োগ পরবর্তী ফলাফল এর যথার্থতাই প্রমান করে।
মূলতঃ দূর থেকে রেইকি দেয়ার যোগ্যতা ও সক্ষমতা অর্জনের জন্য দ্বিতীয় ডিগ্রিী রেইকি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণ কালে গুরু/টিচার দীক্ষা প্রদানের পাশাপাশি হাতে কলমে দূর থেকে রেইকি প্রেরণের নানা কৌশল শিখিয়ে দেবেন। ফলে আপনিও দূরে স্থিত বস্তু/রোগীকে চিকিৎসা দিতে সমর্থ হবেন। তা আপনার অভীষ্ট রোগী পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন।
আপাত দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ব্যাপারটাই অদ্ভুত ও অসম্ভব বলে মনে হয়। একটা সময় ছিল যখন স্বামীর সাথে লন্ডন প্রবাসী সিলেটি মেয়ে আমেনা আজ কি রান্না করেছে, কি দিয়ে দুপুরে ভাত খেয়েছে তা সিলেটের বাড়ীতে অবস্থান কারী তার মা-বাবা, দাদী নানীর সাথে গল্প করা’র কথা ভাবাটা অদ্ভুত বা অসম্ভব ছিল। কিম্বা ব্রাজিলে অনুষ্টিত বিশকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা কিংবা অষ্টেলিয়ার মাঠে চলমান বিশকাপ ক্রিকেট ফাইনালের খেলা আমাদের দেশের পাড়া গাঁয়ের চায়ের দোকানে; চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে, বা আয়াসের সাথে কেউ পান চিবাতে চিবাতে সরাসরি দেখছে আর গোল… গোল… বালে কিম্বা ছক্কা… ছক্কা… বলে পাড়ার আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে তোলছে এমন ভাবাটাও অদ্ভুত বা অসম্ভম ছিল।
আবার ব্রাজিলের জংগলে চলমান অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণের দৃশ্য, জাহাজ ডুবি, দুর্ঘটনা কবলিত বিমান, ভুমিকম্প কবলিত নেপালের ধ্বসংস্থুপের নীচ থেকে অসহায় মানুষগুলোর উদ্ধার তৎপরতা নিজদেশে ঘরে বসে সরাসরি প্রত্যক্ষ করা বা উদ্ধার প্রাপ্ত মানুষটির আনন্দ, বেদনা, হাসি কান্নার সাথে নিজের একাত্বতা অনুভব করার কথা ভাবুন। আবার চলমান ট্রেনে, বাসে বা প্রাইভেট গাড়ীতে বসে ডাক্তর সাহেব কোন আধুনিক হাসপাতালে গতকাল অপারেশান করে আসা রোগীর হালফিল তথ্য নিচ্ছেন বিনাতারের মোবাইল ফোনে অথবা রোগীর আত্বীয় স্বজনরা দূরের কোন জেলা বা উপ জেলায় অবস্থানের কারনে ঢাকায় এসে দেখে যেতে না পারলেও বাড়ীতে বসেই দেখে ও জেনে নিচ্ছেন হাসপাতালে রোগীর স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থার খবর। কিংবা রোগীকে স্বচক্ষে সামনে দেখে কথা বলে তৃপ্ত হচ্ছেন এমন দৃশ্যপটের কথা ভাবাটাও অদ্ভুত বা অসম্ভব ছিল। কিন্তু এখন তা সহজ ও স্বাভাবিক বরং বলা যায় অতি সাধারন বিষয়ে পরিনত হয়েছে। এসব খবর শুনে কোন মানুষ আর অবাক হয় না।
সুতরাং একজন রেইকি মাস্টারের পাঠানো রেইকি’ বা কসমিক এনার্জি’ তথা নূরে এলাহি’ তরঙ্গ যে দূরস্থ কোন রোগীর শরীরে পৌঁছাবেনা এমনটি ভাভবারও কোন যুক্তি সঙ্গত কারন অন্তত আজকের দিনে নাই। তাছাড়া কিছু কিছু শক্তি তরঙ্গ’র এমন কিছু গুণের কথা জানা যায় যা তার লক্ষ্য ঠিক চিনে নিতে পারে। বস্তুতঃ এই শক্তি বা শক্তি তরঙ্গ পরিবেশের প্রভাবে আরও সূক্ষ্ম ও প্রভাবশালী হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। আবার সেই রোগীর শরীর প্রবাহমান এ তরঙ্গকে নিজের দিকে টেনে নেয়। কারণ ঐ তরঙ্গে সেই  (রোগীর) ব্যাক্তির আভা বা অরা লক্ষ্য করে তার আকৃতি প্রকৃতি দৃশ্যমান করে, তার ছবি’র মাধ্যমে, রোগীর নাম, মা বাবার নাম লিপিবদ্ধ চিরকুটের মাধ্যমে, রোগীর হাতপায়ের নখ, চুল ইত্যাদির মাধ্যমে এক ধরনের মানসিক আবেশ বা ম্যান্টাল ফোর্স প্রবাহিত করানো হয়। যা রেইকি টিচার/মাস্টার বা রেইকি চিকিৎসক/থ্যারাপিস্ট বা এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোন ব্যাক্তি দূর থেকে রেইকি প্রেরণের কাজটি সম্পন্ন করেন। এটা ওয়ারলেস, রেডিও, টিভি, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি শক্তি তরঙ্গের গুণ বা বৈশিষ্ট মন্ডিত। আমাদের চার পাশে শত শত শক্তি তরঙ্গ প্রবাহমান থাকলেও আমার রিসিভারে ধরা পড়বে সুনির্দিষ্টভাবে আমি যেটি চাই সেটি’ই। যার ফ্রিকুয়েন্সি অন্য কোনটির সাথে এক নয়।
মানুষতো আরও অনন্য। সৃষ্টিকর্তা চিরঞ্জীব, একক ও অদ্বিতীয় প্রভু আল্লাহ সোবহানুহু তায়ালা, যাকে আমরা কেউ ঈশ্বর, কেউ খোদা, গড, শিব ইত্যাকার না না নামে সম্ভোধন করি, তিনি তাঁর সৃষ্ট প্রতিনিধি মানব জাতীর মধ্যে এমন দুইজন মানুষ হুবহু এক ধরনের তৈরি করেননি, যাদের চেহেরা এক, যাদের আঙ্গুলের ছাপ এক, যাদের ডিএনএ এক, যাদের ব্রেন ফ্রিকুয়েন্সি এক, অর্থাৎ হুবহু এক এমন দুইজন মানুষ সৃষ্টির আদি থেকে আজ পর্যন্ত খোঁজে পাওয়া যাবেনা। কি নিখুঁত ও নিপুন কারিগরি দক্ষতা?
আর এই নিখুঁত অনন্য বৈশিষ্টের কারণে, একজনের ডিএনএ’র সাথে অন্য কোন জনের ডিএনএ এক না হওয়ার নিপুন কারিগরি বৈশিষ্টের কারণেই দূর থেকে রেইকি প্রেরণ এত সহজ ও সফলভাবে সম্ভব হয়। কারণ এখানে রেইকি প্রেরক ও গ্রাহক উভয়ই সৃষ্টির সেরা জীব অনন্য মানব সন্তান। যাদের প্রত্যেকেরই ব্রেন ফ্রিকুয়েন্সি স্বতন্ত্র। কাজেই ভূল হওয়ার কোন প্রকার সম্ভাবনাই নেই। আর সাম্প্রতিক কালে রিচার্জেবল বৈদ্যুতিক সামগ্রী মোবাইল, কম্পিউটারসহ অসংখ্য নিত্যব্যবহার্য্য সামগ্রী রিচার্জ করার জন্য বিদ্যাৎ লাইনের সাথে সংযুক্তই করতেই হয়না। বিদ্যুৎ লাইেনের সাথে সংযুক্ত একটি চার্জার ডিভাইসের সাথে সরাসরি সংযুক্ত না হয়ে তার সীমানার মধ্যে রাখা সকল উপকরণ বিনাতারে রিচার্জ হয়ে যায়। যা ইতিমধ্যে বাজারে চলে এসেছে। উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদের দেশের বাজারও দখল করে নেবে শীঘ্রই বিনা তারের এই রিচার্জিং যন্ত্র।।
আবার আজকের বিশ্বে ব্যাপক ভাবে প্রচলিত, খরচের মাত্রাও নাগালের মধ্যে থাকার কারণে বহুল ব্যবহৃত। দেহ মনের চিকিৎসা একত্রে পাওয়া যায় বলে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসায় শেষ ভরসা বলে খ্যাত চিকিৎসা পদ্ধতি হোমিওপ্যাথি’। এর উদ্ভাবক মহাত্মা হ্যানিম্যান তাঁর বিখ্যাত অর্গাণন অব মেডিসিনে রোগীকে নাগালের মধ্যে পাওয়া না গেলে তাঁর চুল নখের সাহায্যে দূরবর্তী চিকিৎসা প্রয়োগের কথা বলে গেছেন। আমাদের পাশের দেশ ভারত সহ উন্নত অনেক উন্নত দেশ দূর থেকে হোমিওপ্যাথি প্রয়োগে সফল চিকিৎসকের কথা শুনা যায়। বাংলাদেশে এমন দু’এজ জনের কথা মাঝে মধ্যে কানে এসেছে। আর রেইকি? সঠিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত রেইকি চিকিৎসগণ সকলেই আল্লাহর রহমতে দূর থেকে রেইকি চিকিৎসা সফল ভাবে প্রয়োগ করে থাকেন। প্রসংগক্রমে বলে রাখি, হোমিও চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ডাক্তারগণ নিজ পেশার পাশাপাশি রেইকি শিখে দূর থেকে নিজেদের রোগীগণকে সফলভাবে সেবা দিতে সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন। এক্ষেত্রেও সফলতার অর্ন্তনিহীত কারণ এক ও অভিন্ন। রোগীর চুল বা নখ সহযোগে প্রেরিত রেইকি’র ফ্রিকুয়েন্সির রিসিভার হলেন সেই শরীর, যার দেহ থেকে এই চুল বা নখ নেয়া হয়েছে অর্থাৎ যার দেহে ঐ চুল ও নখের মূল বিদ্যমান আছে।
স্পর্শ প্রথায় চিকিৎসা কালে রেইকি সরাসরি শরীর বা দেহ কাঠামোতে প্রয়োগ করা হয়। অপর দিকে শরীর স্পর্শ না করে দূর থেকে রেইকি প্রয়োগ করলে তা কাজ করে রোগীর ‘অরা’ বা ‘আভা/প্রভা’ মন্ডলে। রেইকি শক্তি তরঙ্গ ‘অরা’ বা আভা মন্ডল হয়ে দেহস্থ শক্তি কেন্দ্র/ চক্র/লতিফা/এন্ডোক্রিন গ্লান্ড হয়ে শরীরের রুগ্ন অংশ তথা সংশ্লিষ্ট অংগ প্রত্যাংগ তথা দেহের প্রতি কোষে কোষে/ কোষ-কলাতে পৌঁছে যায়। সেই সাথে শরীরের প্রয়োজনীয় অংশে রেইকি প্রভাহিত হয়ে সেখানকার এনার্জির চাহিদা পরিপূর্ণ করে দেয়। আর রোগী হয়ে উঠেন ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সূস্থ, পরিপূর্ন রোগ মুক্ত। সেই রোগ দেহ, মন, আত্মায় যেখানেই হউক না কেন? কঠিন বা জটিল, নতুন বা পুরাতন যাই হউক।