হাতের তালুর ছোঁয়ায় আরোগ্য

রেইকি প্রশিক্ষণ কালে মনবদেহের মূল সাতটি এনার্জি সেন্টার বা চক্রের বা লতিফার দরজা খুলে যায়। রেইকি মাস্টার তথা শিক্ষকের আধ্যাত্মিক/বিশেষ ছোয়ায় (হায়ার এনার্জি ফিল্ড সৃস্টি করে) রেইকি চ্যানেলে রূপান্তরিত হয়ে গেলে একজন ব্যাক্তি কসমস/ মহাজগত থেকে কসমিক/ মহাজাগতিক শক্তি আহরণ ও বিতরণ করতে পারেন। এ জ্যোতি/নূর/এনার্জি ক্রাউন চক্র/ আখফা/ পিনিয়াল গ্লান্ড/ব্রহ্মতালু দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। তারপর শরীরের উধ্বাংশের এনার্জি সেন্টারের ভেতর দিয়ে হার্টে এবং মনিপুরে/কলবে পৌঁছায়। সেখান থেকে হস্তবাহিত হয়ে তালুতে ও আংগুলে পৌঁছায়। এ হাত রোগীর শরীরে বা নিজের দেহে যন্ত্রণাযুক্ত স্থানে আলতোভাবে রাখা যায় তাহলে হাতের তালু থেকে কসমিক এনার্জি সরাসরি প্রবেশ করে রোগীর যন্ত্রণা বা অসুস্থতার জায়গায়। ফলে রোগের উপশম হয়, পর্যায়ক্রমে পরিপূর্ণ নিরাময় অর্জন সম্ভব হয়। এমনকি যদি রোগীর যন্ত্রণা বা অসুস্থ অংশ চিহ্নিত না করতে পারলেও রেইকি মাষ্টারের হাতের তালু থেকে প্রবাহিত কসমিক এনার্জি ঠিক জায়গায় পৌঁছেযায়। কারণ শরীরে যন্ত্রণা বা ব্যাধির অর্থ হলো শরীরের মধ্যে/ঐস্থানে কসমিক এনার্জির ঘাটতি। দেহের কোথাও না কোথাও কসমিক এনার্জির ঘাটতি হয়েছে বলেই যন্ত্রণা/ বিকল/ রুগ্ন /অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। প্রকৃতির নিয়মেই এনার্জি হায়ার লেভেল থেকে লোয়ার লেভেলে প্রবাহিত হয়। ফলে দেহের যে জায়গায় এনার্জি ঘাটতি হয়েছে সেখানেটিতে হাত না পড়লেও কোন সমস্যা হয়না। এনার্জি প্রয়োজনীয় স্থানে আপনিতেই পৌঁছে  চিকিৎসার জন্য রোগীর দেহের নির্ধারিত ২৪ পয়েন্টে বা ৭টি প্রধান চক্রে হাতের তালুর স্পর্শে কসমিক এনার্জি প্রয়োগ করতে থাকলে সারা শরীর সতেজ বা চাঙ্গা হয়ে উঠে এবং রোগ থেকে আরোগ্য লাভ হয়।

প্রাচীন পদ্ধতিতে আধুনিক বিশ্বের সমাধান

কোনো ওষুধ ছাড়া, শুধু হাতের স্পর্শে অতীতে বিভিন্ন সময়ে মহামনবেরা জরাগ্রস্থ বা রোগাক্রান্ত মানুষকে সুস্থ করার ইতহাস আমরা শুনেছি। ঐসব ঘটনা বা কাহিনী অবিশ্বাস্য মনে হলেও এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। দুহাতের তালুর সাহার্য্যে মহাজাগতিক শক্তিকে আহরণ করে রোগগ্রস্থ মানব দেহে পৌঁছে দিয়ে অসুস্থতা দূর করা সম্ভব। আর একারণেই আধুনিক বিজ্ঞান চর্চার অগ্রভাগে থেকেও আমেরিকা, কানাডা, অস্টেলিয়া, ইউরোপের দেশে দেশে,  জার্মান, ফ্রান্স, জাপানের মতো উন্নত দেশগুলির পাশাপশি চিন, রাশিয়া, ভারতসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশে রেইকি চিকিৎসার ব্যাপক প্রসারের সাথে সাথে গবেষণা চলছে প্রতিনিয়ত। যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে আরোগ্য লাভ সহজে হচ্ছেনা, সেখানে হাসপাতালেই প্রয়োগ করা হচ্ছে রেইকি চিকিৎসা। হাসপাতালে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, চিকিৎসকদের সম মর্যাদায় রেইকি মাস্টারগণকে। এর গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার সীমা আরও প্রসারিত হয়, যখন জানতে পারি আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন, ভারতের কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, তদীয়পুত্র কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীরমত বিশ্বসেরা নেত্রীবৃন্দ ও সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বদান কারী বর্তমান ও সাবেক জেনারেলগণ এবং বিশ্বের দেশে দেশে প্রখ্যাত সেলিব্রিটিগণ রেইকি চ্যানেল। তাঁরা নিয়মিত আত্মকল্যাণে রেইকি চর্চা করেন। জাপান প্রায় ১৫০ বছর পূর্বে এ চিকিৎসা পদ্ধতির নাম দিয়েছে রেইকি। ট্রান্সপার অব লাইফ ফোর্স এনার্জি। রাশিয়ানরা বলে বায়ো প্লাজমিক এনার্জি। চীনারা বলেন তাইচি সংক্ষেপে চি নামে। মুসলিম বিশ্বে নূরে ইলাহি। ইউরোপ, আমেরিকাতে বলছে কসমিক এনার্জি।