প্রাকৃতিক আরোগ্য কলা

রেইকি প্রাকৃতিক আরোগ্যকরণের উসুই পদ্ধতি। দেহ, মন এবং আত্মার সম্পূর্ণ বিশ্রান্তি ও দূরবর্তী আরোগ্যকরণ এবং পেশাদারী চিকিৎসার এক পবিত্র পদ্ধতি। বিভিন্ন শিক্ষকেরা একে জীবনীশক্তি, মহাজাগতিক প্রাণশক্তি, মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রনকারী শক্তি বলে অভিহিত করেন। কারণ যখন এই শক্তি প্রয়োগ করা হয় তখন যে বস্তুতে শক্তি প্রদান করা হয় তার সমস্ত দেহেই শক্তির সঞ্চার হয়। ফলে অনুভব হয় বিশেষ কম্পণ (Vibration) বা আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। যাকে বাস্তবে স্পর্শ করা যায় না, যার কোন আকার নেই, ওজন নেই, যা দৃশ্যমানও নয়। কিন্তু প্রয়োগকালে অনুভব করা ও ফলাফল পাওয়া/দেখা যায়।
রেইকিতে কোন মেডিসিন বা ঔষধ লাগে না, কোন থেরাপি (সেক), প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট বা কোন প্রকার সার্জারিরও প্রয়োজন হয় না।
Reiki has been defined as a relaxation technique, as a stress reduction technique and as a healing experience. It is all that and more.
REIKI is so hard to explain and so simple to experience.

রেইকি জাদু বিদ্যা নয়

সার্বিক বিবেচনায় রেইকি প্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখা ভাল যে, রেইকির প্রয়োগ পদ্ধতি ফলাফল দেখে অনেকেই একে জাদু বিদ্যা মনে করেন। কিন্তু না এই বিদ্যা কোনো জাদু বিদ্যা নয় যে, শিখে নিলেই রাতারাতি অসাধ্য সাধন করা যাবে। এটি হলো একটি শক্তির প্রবাহ (Energy flow) যা একটা নিশ্চিত প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজের কাজ করে।

রেইকি কোন ধর্ম বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত নয়

রেইকি হলো একটা অমূর্ত সর্বব্যাপি শক্তি। বিশ্ব চরাচরে সর্বত্র ব্যাপ্ত এই শক্তি বা এনার্জির উপর সকলেরই জন্মাগত ভাবে সমান অধিকার। তাই কোন একটি ধর্ম বিশেষের সঙ্গে এর কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই। তবে মানুষ মাত্রেই তাঁর বিশ্বাসকে কোন না কোন ধর্মের সঙ্গে জুড়তে চান। এজন্য প্রত্যেক মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট করে নিতে চান। সুতরাং বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে।

বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি

রেইকি কে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি বলা হয়। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন দেশে বহু ধরনের বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত আছে। বহুল প্রচলিত বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদি, ইউনানি, যোগথেরাপি, আকুপ্রেসার, আকুপাংচার, রেইকি, নেচারোপ্যাথি, ফিজিওথেরাপি, ম্যাগনেটো থেরাপি, তাইচি, হাইড্রোপ্যাথি, কোয়ার্টজ কৃষ্টাল থেরাপি, সিদ্ধাচিকিৎসা, ওয়াটার থেরাপি (জল চিকিৎসা), হিপনোথেরাপি, সিয়াথসু, সাউন্ড (শব্দ) থেরাপি, এরোমা থেরাপি (গন্ধ চিকিৎসা), সুযোক থেরাপি, সিড (বীজ) থেরাপি, ইউরিন থেরাপি (স্বমূত্র চিকিৎসা), প্রাণায়াম, মাহিকারি, প্রাণীক হিলিং ইত্যাদি নানা নামে নানা ভাবে ব্যবহার ও প্রয়োগ করা হচ্ছে। সমতুল্য বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি সমূহের মধ্যে রেইকি পদ্ধতি অতি সহজ ও সরল। কোন রক্তক্ষরণ হয় না, ঔষধ বা যন্ত্রপাতি লাগেনা বিধায় রেইকি কষ্টমুক্ত, খরচ কম এবং রোগ নিরাময়ও অপক্ষেকৃত কম সময়ে হয়।

রেইকি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক

রেইকি ডি.এন.এ/ আর.এন.এ কে প্রভাবিত করে এবং এনজাইম (Enzyme) ও প্রোটিনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। শরীরের বাহ্য আবরণে স্থিত প্রত্যেক চক্র বা লতিফা এবং অন্তঃস্রাবী নালী হীন গ্রন্থির সঙ্গে সম্পর্কিত যা শরীরে হর্মোন তৈরি করে। রেইকি দেহস্থিত শক্তি চক্র বা লতিফা সমূহকে সুস্থ, স্বাভাবিক ও সমন্বিত করার একটি অভূতপূর্ব প্রণালী। রেইকি প্রয়োগ রত অবস্থায় আধুনিক যন্ত্রে প্রবাহমান বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ পরিমাপ করা যায়। দেহ থেকে বিকিরিত সাধারণ চোখে অদৃশ্য আলোক মালার ছবি তোলা যায় কার্লিয়ন ফটোগ্রাফির মাধ্যমে।

রি-অ্যাকশন বা সাইড ইফেক্ট নাই

রেইকির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে যে, যখন আপনি কাউকে রেইকি চিকিৎসা করছেন সেই সময় আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী রেইকি স্বতঃই আপনার শরীরে ব্যাপ্ত হচ্ছে। সুতরাং এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার ফলে কোনক্রমেই আপনি ক্লান্ত বা আপনার শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায় না। এক্ষেত্রে আপনি সর্বব্যাপী প্রাণশক্তিকে ব্যবহার করছেন। নিজের থেকে কিছু দিচ্ছেন না। এই সর্বব্যাপী প্রাণশক্তি শুধুমাত্র জীবিত প্রাণীর আরোগ্য সাধনের জন্যই নয় বরং পৃথিবীর সমস্থ সৃষ্টির মধ্যেই পরিব্যাপ্ত এবং সমস্থ সৃষ্টির কল্যাণে প্রয়োগ করা যায়।
তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) রেইকি পদ্ধতিকে খুবই গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করেছে। কারণ আজ এটা নির্বিবাদে সিদ্ধ হয়ে গেছে যে, প্রতিষ্ঠিত এলোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি কোনো রোগকেই সমুলে বিণাশ করতে পারে না, চাপা দিয়ে দেয়; আর অদূর ভবিষ্যতে এর পরিণাম কখনো কখনো বড় ভয়ঙ্কর হয়। এমনও দেখা গেছে এলোপ্যাথিক চিকিৎসা একটা রোগ সারাতে গিয়ে বা সারিয়ে আর একটা রোগের জন্ম দিয়ে ফেলেছে। অধিকাংশ সময় এই ধরনের রোগের চিকিৎসা সম্ভব হয় না। এগুলো হয় দূরারোগ্য (Incurable Decease) রোগ। দৃষ্টান্ত হিসাবে- ইদানিং ডায়াবেটিস রোগিদের প্রায়ই বলতে শুনাযায় দীর্ঘ দিন ইনসুলিন গ্রহণের ফলে তাদের কিডনির, হার্টের, চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছে, আবার দীঘদিন হাঁপানির ওষধ ব্যবহারের ফলে রোগেীর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন ইত্যাদির কথা বলা যায়। দেয়া যায় আরও অনেক উদাহরণ।
রেইকি শক্তির দ্বারা কৃত চিকিৎসায় এমন কোনো দোষ বা কু-পরিণামের সম্ভাবনা নাই। এই চিকিৎসা যত বেশি মাত্রাতেই দেওয়া হোক বা যে রোগেই প্রদত্ত হোক, কোনো ক্ষতি হয় না।

সকলের জন্য বিপদমুক্ত চিকিৎসা

রেইকি প্রয়োগের ফলে রোগীর দেহে বড় কোন ক্ষত তৈরি করে না, সূক্ষ টিস্যু বা নার্ভ নষ্ট বা ধ্বংস করে না, সুতরাং ব্যবহারিক জীবনের জন্য ইহা বিপদমুক্ত চিকিৎসা। যেহেতু রেইকি মহাজাগতিক তরঙ্গশক্তি, সুতরাং জীবমাত্রেই উপকৃত হয়। এই শক্তি দ্বারা চিকিৎসার মাধ্যমে উদ্ভিদ জগৎ, জীব-জন্তু, পক্ষীকুল এবং সর্বোপরি মানবজাতির ছেলে, বুড়ো, ধনী, দরিদ্র সবাই উপকৃত হয়। ইহা প্রাত্যাহিক জীবনে প্রয়োগ করা উচিত কারণ রেইকি আমাদের সর্বরোগ ও বাধা থেকে মুক্ত থাকার জন্য সাহায্য করে।
রেইকি শক্তি সমস্ত ধরনের রোগে এবং রোগের যে কোনো অবস্থায় সুফল দায়ক। কসমিস এনার্জি সেই অবস্থাতেও ফল প্রদান করে, যখন একজন রোগী অন্য কোথাও অন্য কোন পদ্ধতির আওতায় চিকিৎসা করাচ্ছেন। অর্থাৎ প্রয়োজনে একই সঙ্গে চালানো যায় এবং সেক্ষেত্রেও সুফল পাওয়া যায়। রেইকি শক্তির দ্বারা কৃত চিকিৎসায় এমন কোনো দোষ বা কু-পরিণামের সম্ভাবনা নাই। এই চিকিৎসা যত বেশি মাত্রাতেই দেওয়া হোক বা যে রোগেই প্রদত্ত হোক, কোনো ক্ষতি হয় না। রেইকির মধ্যে স্বয়ং যে কোনো রোগকে সারাবার ক্ষমতা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও অন্য চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে এর কোনো বিরোধ নেই। এটি একটি স্বতন্ত্র এবং পূর্ণ সক্ষম বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি।

সতেজ করে আয়ু বাড়ায়

মাদাম হায়াও তাকাতা যিনি জাপান থেকে রেইকি সর্ব প্রথম আমেরিকা নিয়ে যান; অতঃপর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন। তিনি রেইকি সম্পর্কে তাঁর বর্ণনায় লিখেছেন-রেইকি দীক্ষা গ্রহণের পর এই শক্তিদ্বারা শরীর বিশুদ্ধকরণ বা পরিস্কৃত হওয়া তথা আত্মশুদ্ধি অর্জণের পর শারীরিক কর্মক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়, অসার স্নায়ু সকল সারা পায়। ক্ষুধার বৃদ্ধি হয়। নিদ্রা বিঘ্নিত হয় না, চক্ষুদ্বয়ের ঔজ্জ্বল্য বা দ্যুতি বৃদ্ধি পায়, রেশমী কাপড়ের মত ত্বক উজ্জ্বল হয়। সঠিক রক্ত সংবহনের জন্য স্নায়ু ও গ্রন্থিসমূহ সক্রিয় হয়। পাঁচ হতে দশ বছর পর্য্যন্ত বয়স হ্রাস হয়েছে বলে মনে হয়, ক্ষেত্র বিশেষে পূর্ণযৌবন লাভ হয়েছে বলা যায়।